হরিপালের মেলায় বই সহ অন্যান্য অনেক কিছু বিক্রি হচ্ছিল। কিন্তু বই বাদে অন্য সব জিনিস পত্রের দাম বেশি। কারণ ওটি ছিল ডাকের মেলা। ডাকের মেলা বলতে বিক্রেতার কাছ থেকে টাকা নিয়ে মেলা বসানো। সেই টাকা যদি অনেকটাই বেশি হয়। তখন বিক্রেতারা জিনিসের দাম বেশি নেয়।
This is a news blog. Here I write story, social incidents, political incidents, & my life history etc.
Saturday, 13 May 2017
হরিপালের মেলা
পলতাগড় গ্রামের শ্মশান কালী মাতা মন্দির।
আমি আগেই বলেছি যে আমি পশ্চিম বঙ্গের হুগলি জেলার সিঙ্গুর থানার অন্তর্গত পল্তাগড় গ্রামের বাসিন্দা। যে ছবি টি দিতে চাইছি যানিনা দেখা যাবে কিনা। যদি দেখা যায় তাই লিখছি ছবিটি পল্তাগড় গ্রামের শ্মশান কালী মাতার। বর্তমানে মন্দির টি এরকম হলেও তা বহু বছর আগে মন্দিরটি উত্তর মুখে ছোট্ট একটা মন্দির ছিল। এখন যিনি সাধক আছেন তার আগের সাধক মন্দির সংস্কার করেন। এখন শ্মশানে সেভাবে শবদাহ হয় না খুব কালেভদ্রে শবদাহ হয়। বহু বছর আগে এখানে ভালো শব দাহ হত। কারণ শবদাহের যে শ সেটি এখনও আছে। শবদাহ না হলেও কোনও ছোট বাচ্চা মারা গেলে এখানে সমাধি দেওয়া হয়। এবং সাধক দের সমাধি দেওয়া হয়। মহাপ্রভুর ঘট আছে শ্মশানে একটা পুকুর আছে ছোট বেলায় শুনেছি ওর জল শুকাত না। এখানে কাপালিক থাকতন তিনি শব সাধনা করতেন। অনেকে বলেন তিনি শ্মশান জাগাতে পারতেন। শ্মশান বনজঙ্গলে ভরা ছিল। এখন পরিস্কার হয়ে গেছে। আগে সন্ধ্যা হলে ঐ শ্মশানের পাশ দিয়ে যেতে গা ছম ছম করত। এখন শ্মশানের জায়গা দখল করে বাড়ি হয়েছে। আমারা ছোট বেলায় শ্মশান নিয়ে অনেক কথা শুনেছি। মাঝে মাঝে চুরি ছিনতাই হত। এখন পুকুরে আর্বজনা ফেলে নষ্ট করে ফেলা হয়েছে। যাহোক বহু যুগ আগের এই শ্মশান আমাদের গ্রামের শ্মশান ভীষণ পবিত্র স্থান।
Wednesday, 10 May 2017
আমার কথা
নমস্কার আমি শ্যামল বন্দ্যোপাধ্যায় আমার কিছু মনের কথা লিখব। জানি আমার এই ব্লগ কেউ দেখতে পাবেন না। এই ব্লগ কেবল আমি দেখেছি। আমার জীবনে অনেক কিছু ঘটেছে এখন ঘটে চলেছে। আমি কিভাবে যে সেই সব পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে এসেছি এবং বর্তমানে বেড়িয়ে আসার চেষ্টা করছি। সেই কথা লিখব। আমার পিতা অধুনা বাংলাদেশের বরিশালের নলচিরা গ্রামের বাসিন্দা উপেন্দ্র নাথ বন্দ্যোপাধ্যায়েরধ্যায়ের পুত্র সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়। ভারত স্বাধীন হওয়ার চার পাঁচ বছর আগে এই বাংলায় চলে আসেন এবং বিরামনগর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক ছিলেন। তখন কার শিক্ষকদের অবস্থা বলার মতো নয়। অবস্থা তথৈবচ আমারা অনেক কষ্টে বড়ো হয়েছি। যার পিছনে আমার মা যোগমায়া বন্দ্যোপাধ্যায়ের কষ্ট বলার বা লেখার মত নয়। সিঙ্গুরে পল্তাগড় গ্রামে থাকতাম কত ব্যঙ্গ বিদ্রুপ সহ্য করতে হতো তা বলা যাবে না। আমার মায়ের কটি কথা আজও মনে পড়ে কুকুর যদি কামড়ায় তাকে মানুষ কামড়ায় না। তিনি আরও বলতেন মানুষ হবে মনুষ্যত্ব বিবেক ও চরিত্র নষ্ট করে নয়। পল্তাগড় গ্রামে গ্রামে আমাদের ছোট্ট ভিটে তাই নিয়ে প্রতিবেশীদের সাথে প্রায়ই বিবাদ হত। কখনো ভীষণ অত্যাচার হত মাটির ঘর পেটখোলা দিয়ে ছাওয়া টিনের দরজা ভেঙে ঢুকে মারধর করত। ওই জায়গায় আমাদের থাকতে দেবে না। কারণ আমরা বাংলাদেশের লোক। আমার বাবা যখন আসে তখন দেশ স্বাধীন হয় নি। আর আমাদের জণ্ম স্বাধীন ভারতে অর্থাৎ এপার বাংলায়। পরের বাড়ি থেকে চেয়ে এনে খাওয়া এত ছিল। পড়ার বই খাতা পেন্সিল নিয়ে পড়া। পেন্সিলের লেখা মুছে আবার লেখা। আমার বা আমাদের কাহিনী লিখে শেষ করা যাবে না। এরমধ্যে 1988 সালে বাবা মারা গেলেন চাকুরি রত অবস্থায়। বাড়ির বড়ো ছেলে হিসেবে মা আমাকে বাবার চাকুরিটির জন্য আমার নাম সুপারিশ করলেন। যাতে চাকুরিটি আমার না হয় তখন কার বামফ্রন্টের ছোট বড়ো মাঝারি নেতারা উঠে পড়ে লাগল। কাগজ হারিয়ে দেওয়া আসল কাগজ নিয়ে নেওয়া অনেক কিছুই হলো। 1989 সালের 9ই সেপ্ট আমার মা মারা গেলেন। সেই ঘটনা আমি কোনো দিন ভুলতে পারিনি। পরে থাকলাম আমি আমার ছোট ভাই যার বয়স তখন 9 বছর আর আমার এক দিদি এবং তার ছয় বছরের মেয়ে। আমি অনেক কষ্টে নিজেকে সামলে নিয়ে মাটির হুমরি খাওয়া ঘর বাদ দিয়ে অল্প সল্প করে ইট কিনে দুটি ঘর টালির ছাউনি দেওয়া করলাম। আমার সহকর্মীরা আমার বিয়ে দেওয়ার জন্য পাত্রী দেখা শুরু করল। অবশেষে হামিরাগাছির ব্রাহ্মণ পাড়ার বাসিন্দা লোকনাথ চক্রবর্তীর মেয়ে শুভ্রা চক্রবর্তীর সঙ্গে 1994 সালের 3রা মার্চ আমার বিবাহ হল। বর্তমানে দুই সন্তান। আর বেশি কিছু লিখলাম না। সব কিছু লেখা যায় না। কারণ কিছু মানুষ থাকেন যারা দুখের কথায় সুযোগ খোঁজে। এমন অনেক কথা থাকে যা বলা বা লেখা যায় না। তাই আমার কথা এখানেই শেষ করছি। সকলে পড়বেন কেমন।