স্বাধীনতার জন্য লড়াইয়ে বাঙালির অংশ গ্রহণ সে বলে শেষ করা যাবে না। সেই সব বরেণ্য বাংলা মায়ের বীর সন্তান দের আমার সশ্রদ্ধ প্রণাম। সেই সময় অনেক মহান ব্যক্তি বলে ছিলেন ইংরেজ দের যা ভালো অভ্যাস সেগুলো গ্রহণ করা যেতে পারে। কিন্তু আমরা সেই সব মহান মানুষের কথা মত ভালোর বদলে খারাপ গুলো বেশি করে নিয়েছি। পোশাক পাল্টেছি, ভাষা বাংরেজি হয়ে গেছে। বারে গিয়ে আবার নাইট ক্লাবে গিয়ে মদ খাচ্ছি। মেয়েদের সাথে অসভ্যতা করছি। কেউ বাধা দিলে তার দফা রফা করছি। যার খুব টাকা পয়সা আছে সে ভালো মদ খেয়ে সারা রাত নুতন নুতন মেয়েদের সাথে রাত কাটিয়ে ভোরে ভালো মানুষ সেজে বাড়ি ফিরছে। এই ভাবে কত বাবা মা এর সন্তান অকালে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে। এ গুলো শহরের দিকে বেশি তবে আজ কাল গ্রামের দিকেও এই বদ অভ্যাস গুলো এসে পড়েছে, দূর্দশনের দৌলতে। গ্রামের ছেলেরা বিলেতি মদ না পেলে গ্রামে তৈরি চুল্লু খেয়ে অসভ্যতা করছে। গ্রাম্য সংস্কৃতি পারস্পরিক সম্পর্ক
ভুলতে বসেছে। তৈরি হয়েছে অপসংস্কৃতি কারণ গ্রামের অনেক অল্প শিক্ষিত বেকার ছেলে শহরের কারখানায় কাজে যেত। এখন কাজ নেই কারখানা বন্ধ, কী করবে ভেবে পাচ্ছে না। কাজের অভাব পয়সার টান তবুও চলে চুল্লুর ফোয়ারা। চুল্লুর নিয়ে পরে আবার লিখব এখন এই পর্যন্ত। পড়বেন মন্তব্য করবেন।
This is a news blog. Here I write story, social incidents, political incidents, & my life history etc.
Tuesday, 6 June 2017
আজকের দিনে বাঙালি।
Saturday, 3 June 2017
দশহরা বা গঙ্গার পূজা।
বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বন এ প্রবাদ বাক্য প্রচলিত। সারা বছর নানা পূজা পাঠ লেগেই আছে। সেই রকম জৈষ্ঠ মাসের শুক্ল পক্ষের ষষ্ঠী, যেমন অরণ্য ষষ্ঠী বা জামাইষষ্ঠী সেই ষষ্ঠীর ঠিক চার দিন পর অর্থাৎ শুক্লপক্ষের দশমী তিথিতে দশহরা বা গঙ্গার পূজা। কিন্তু বাংলার গ্রামে গ্রামে গেলে দেখা যাবে গঙ্গা পূজার বদলে মা মনসার পূজা হচ্ছে, মহাধূমধাম করে। অনুষ্ঠানটি অর্থাৎ পার্বন টি ঘরে ঘরে পালিত হচ্ছে দশ ফল দশ ফুল দিয়ে মা মনসার পূজা করে।
সারা দিনের খাদ্য হল, চিড়ে, দই, আম, কলা অর্থাৎ ফলার। গ্রাম বাংলায় তবুও এসব অনুষ্ঠান দেখা যায়। শহরে নেই বললেই চলে, কারণ শহরের বাঙালি অবাঙালী দের সঙ্গে থাকতে থাকতে এসব ভুলে গেছে। আজকের প্রজন্ম এসব মানতেই চায় না। তাদের এখন নাইট ক্লাব কালচার পার্টি এগুলো বড়ো উৎসব হয়ে উঠেছে। শহরের বাঙালি আর সেই বাঙালি নেই।
Thursday, 1 June 2017
কাক ও বকের কথা সঙ্গে মাছরাঙা ও অন্যান্য।
ভূমিকা :- এখন একটু অন্য রকম কথা লিখব। এই লেখার সঙ্গে যদি সমাজের কোনো ঘটনা বা অন্য কোন কিছুর যোগ থাকে তবে সেটা অনিচ্ছাকৃত তার জন্য আগে থেকেই মার্জনা চাইছি। কাউকে আঘাত করা বা অপমান করা আমার উদ্দেশ্য নয়। এটি নিছক কাল্পনিক চরিত্র নিয়ে একটা হাসির গল্প।
গ্রামের মাঝে একটা বড় দীঘি ছিল দীঘিটি এত বড় ছিল আশপাশের অন্য গ্রামের লোকজন ও দীঘিটি ব্যবহার করতো। সঙ্গে দীঘির পারের গাছে পালায় বাস করত বিভিন্ন রকমের পাখি কাক, বক, মাছরাঙা, পানকৌড়ি, জলের মধ্যে থাকত উদবিড়াল বা ভোঁদর। কাক চালাক চতুর আর চরম মিথ্যে বাদী, অপরের খাবার খেয়ে নিয়ে ডালে ঠোঁট মুছে বলে আমি তো খাইনি। অনেক দিন ধরে এই দীঘিটি "বক" দের দখলে ছিল। হঠাৎ করে "কাক" আর "মাছরাঙা" মিলে জোট বেঁধে দীঘি রাজ দখল নিয়েছে। বাকি সব পাখি দের "কাক" এমন বুঝিয়েছে, আগেই বলেছি কাক খুব মিথ্যে বাদী এদের মধ্যে কাকের শ্বরী পাতি খুব মিথ্যে বাদী। দীঘির পূর্ব দিকে জল কলমী আর কচুরিপানা ছিল জায়গাটি ডাক পাখি দের দখলে ছিল। বকেশ্বর দখল করছিল কারখানা করবে বলে। যা লড়াই হল, সেই লড়াই আর পশ্চিমের লড়াই লড়ে তিনি ক্ষমতায় এসেছেন। এসেই যা যা করবেন বলে ছিলেন কিছু করলেন প্রথমে বকেশ্বরের কর্মী দের জব্দ করলেন। ট্যাঁ ফোঁ করার যো নেই, অনেক আশা নিয়ে তারাও বাঁদর লাফনো লাফিয়ে ছিল। কত ভাঙচুর করে কাজ না করে ফাঁকি দিয়ে বকেরশ্বর কে জব্দ করে ছিল সামান্য পাওয়ার জন্যে। এখন আম গেছে আর ছালাও গেছে আর কিছু করলেই বদলি অন্য বনে জঙ্গলে। সেই জন্য মুখ বুজে সহ্য করতে হচ্ছে। হাতে না মেরে ভাতে মারছে দেখ কেমন লাগে। আবার ইঁদুর দের জমানো ধান তিন মাসে ডবল করে দেব বলে "বুলবুলি" তে খেয়ে নিয়েছে। কাকের শ্বরী পাতি বলেছেন যা গেছে তা যাক ও নিয়ে ভেবে লাভ নেই। আমার ক্ষমতা চাই তাই পক্ষী কুলের সরকারি কর্মীদের নিয়ে বৈঠক করেন আর প্রতিশ্রুতির বন্যা বয়ে যায়। পরে যদি বলেছেন এই প্রতিশ্রুতিটা পূরণ হয়নি। তাহলে হবে না বলে দেন, তিনি সকলের সামনে কর্মী ও নেতা দের ধমক দেন। বলেন কাজের জন্য কারো কাছে ধান মাছ ডিম এসব ঘুষ খাওয়া চলবে না। পিছনে নিশ্চয়ই বলেন যেমন চলছে চলুক না হলে দল চলবে কি করে। বাকি থাকলো পরে আবার লিখব। কাকের শ্বরী কে নিয়ে কেমন।
আমাদের মুখ্যমন্ত্রী ও জনগণ।
আজ ১ লা জুন ২০১৭ আনন্দ বাজার পত্রিকায় নেটে প্রকাশিত একটি খবর পড়লাম একজন পশ্চিম বঙ্গের বাঙালি হয়ে খুব গর্ব হল। সত্যি মুখ্যমন্ত্রী তো এমন হওয়া উচিত। তিনি সাধারণ মানুষের দুঃখের কথা শুনবেন তাদের কিছু হলেও উপকার করবেন। আরেক টি খবরের পড়লাম তিনি প্রতিশ্রুতি দিলে রাখেন এটাও সত্যি কারণ ২০১১ সালে তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়ে ছিলেন ক্ষমতায় এলে সিঙ্গুরের জমি চাষিদের ফিরিয়ে দেবেন, তিনি দিয়েছেন। আরেক টা প্রতিশ্রুতি তিনি দিয়ে ছিলেন সরকারি কর্মীদের ১৬ শতাংশ বকেয়া ডিএ যে দিন থেকে কেন্দ্র সেদিন থেকে বকেয়া করে দিয়ে দেবেন। কিন্তু আজ পর্যন্ত বকেয়া ডিএ এর পরিমান পঞ্চাশ শতাংশ পার হয়ে গেছে।
পে কমিশন সে তো কবে হবে কেউ জানে না। তিনি আরও অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়ে ছিলেন রেল মন্ত্রী থাকা কালীন। সিঙ্গুর থেকে নন্দীগ্রাম রেল হবে। তারকেশ্বর থেকে মসাগ্রাম রেল হবে। 2016 সালেও বিধানসভা নির্বাচনের আগে তিনি প্রতি জেলায় সরকারি বৈঠকে অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। প্রতি ব্লকে শিল্প কারখানা হবে। সুপার স্পেশালিটি হসপিটাল হবে। গোবরডাঙার সুপার স্পেশালিটি হসপিটালের কথা উঠতেই তিনি না বলে দিলেন। তবে আমার মনে হয় তিনি যে এখন আবার নতুন করে জেলায় জেলায় সরকারি সভা করছেন। তা পঞ্চায়েত ভোটের দিকে তাকিয়ে। আমরা চাই তিনি সব প্রতিশ্রুতি রাখুন এবং প্রশাসনিক বৈঠকে নেতা দের সরকারি আমলাদের যা বলেছেন তা যেন বাস্তবে হয়। কারণ তিনি সব প্রতিশ্রুতি রাখেন নি কিন্তু গ্রামের রাস্তা গুলো ভালো করে দিচ্ছেন। তৃণমূল দলে বেশ কিছু খারাপ লোক ঢুকেছে, তিনি তাদের বলুন তুমি নিজে কে সৎ প্রমাণ করে ফিরে এসো। মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীর চেষ্টার ত্রুটি নেই কিন্তু কিছু অসৎ মানুষ বামফ্রন্ট থেকে এই দলে ঢুকে বদনাম করছে। আপনার অনুরোধ করছি আপনি এগুলো দেখুন।
Wednesday, 31 May 2017
আজকের দিনে সাধারণ গরীব মানুষের ভূমিকা।
গ্রাম গঞ্জে অনেক গরীব খেটে খাওয়া মানুষ আছে যারা সত্যিকারের জীবন যন্ত্রণা ভোগ করে বেঁচে আছে। অর্ধেকের বেশি মানুষের আয় নুন আনতে পান্তা ফুরায় অবস্থা। দিনের পর দিন না খেয়ে আধপেটা খেয়ে কোন রকম দিন কাটায়। সেই সব মানুষদের জন্য কী কেন্দ্র সরকার কী রাজ্য সরকার সে রকম কিছু ভাবে না। শুধু ভোট এলে প্রতিশ্রুতি দেন, যদি বা করেন যৎসামান্য। যেমন ধরুন দু টাকা কিলো দরে চাল সপ্তাহে মাথা পিছু ৫০০ গ্রাম। তাও সব গরীব মানুষ পায় না। ঐ কার্ড বেশিরভাগ বড়লোক বা ধনীর দখলে কারণ কার্ড বিলি করে শাসক দলের লোক দুর্গা দালান বা ক্লাবে বসে। যারা শাসকের বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তারাই কার্ড পেয়েছে। আর যে আটা দেওয়া হয়। সে তো বলবার নয়। রাস্তার ধূলোর থেকে একটু সাদা আর লেখা আছে এক মাসের মধ্যে ব্যবহার করতে হবে। দিচ্ছে এক মাস পর বা দু এক দিনের মধ্যে মাস ফুরবে বা সেই দিন মাস ফুরবে। অনেক বলবেন আপনি এসব জানলেন কীভাবে আমার পাশের বাড়ির এক জন এনে যে গুলো পারছেন নিজেরা খাচ্ছে আর খারাপ হয়ে গেল ছাগলকে খাওয়াচ্ছে। হ্যাঁ এই প্যাকেট আটা দোকানে পাঁচ টাকা প্যাকেট বিক্রি হচ্ছে। ধনী ব্যক্তি এনে বেশি দামে বিক্রি করছেন। সব খেতে পাক আর না সব অল্প শিক্ষিত বেকার কাজ পাক আর না পাক। কারণ পুরনো কারখানা বন্ধ হচ্ছে। নতুন কারখানা হচ্ছে না। কিন্তু ভোটের সময় সব দল এদের কাজে লাগাছে বোম আর বন্দুক শিল্পে কাজ দিয়ে। ভাই ভাই এর রক্তে হাত রাঙাছে কত মানুষের প্রাণ যাচ্ছে সে যাক তবুও তো ভোটে জিতছে। যারা এসব করছে তাদের একটা সান্ত্বনা আছে পুলিশ ধরবে না। ভোট এলেই গরীব খেটে খাওয়া নিরন্ন মানুষের রক্ত ঝরবে, তাতে কী? ভোট হবে নেতারা জিতবেন তাদের আঙুল ফুলে কলাগাছ হবে। কেমন সুন্দর ব্যবস্থা তাইনা
Tuesday, 30 May 2017
পশ্চিমবঙ্গে বাম শাসনে আমরা কতটা কম্যুনিস্ট হয়েছি।
পশ্চিমবঙ্গে গত ৩৪ বছরের বাম আমলে একেবারে যে কিছু পাইনি তা বলা যাবে না। আবার অনেক কিছু পেয়েছি, এটাও বলা যাবে না। তাহলে হয়ত বলা হবে মানুষের সব চাহিদা পূরণ করা সম্ভব নয়। আজকে আমি এখানে এসব হিসাব করতে লিখতে আরাম্ভ করিনি। ওসব হিসেবে নিকেষ করার অনেক লোক আছে। আমি কম্যুনিস্ট শাসন শুরু হওয়ার কয়েক বছর আগে জন্মেছি। আমি বাহাত্তরের দাঙ্গার ছ বছর আগে জন্মেছি। আর ছোট থেকে কম্যুনিস্ট পার্টির আদর্শের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই চলে আসছি। কিন্তু দুঃখের বিষয় ঐ দলের নেতাদের বিশ্বাস অর্জন করতে পারিনি। কেন জানি না, অনেক সময় আমায় তারা মিটিং মিছিলে নিয়ে গিয়েছে। আবার অনেক সময় আমি নিজেও গিয়েছি। কিন্তু আজও নেতাদের আচরণ দেখলে মনে হয় তারা আমায় চায় না। কারণ আমার জানা নেই। সেই জন্য আমার মনে প্রশ্ন জাগে আমি বুঝি নি প্রকৃত কম্যুনিস্ট বা কম্যুনিজম কী? এখানে বলি আমি কিন্তু পার্টি সদস্য নয়। আমি সর্মথক, এসব কথা আগেই বলেছি। আজ আমার পাড়ার এক পার্টি সদস্যকে জিজ্ঞেস করলাম প্রকৃত কম্যুনিজম কী? সে তো আমার উপর রেগে গেলেন। অনেক কথা বলে দিলেন। আর একটি প্রশ্ন করলাম। পশ্চিমবঙ্গে ৩৪ বছরের বাম শাসনে কতটা কম্যুনিজম এসেছে? ভদ্রলোক অল্প শিক্ষিত বিবাহ করেন নি। তিনি প্রশ্ন শুনে ক্ষেপে গেলেন। আমি বললাম বিভিন্ন পত্রিকা ও বই পড়ে আমি যে টুকু বুঝেছি তা হলো, কম্যুনিজম মানে সব বিষয়ে সকলের সমান অধিকার। আপনার কাজের অধিকার ছিল, বিবাহ করে সংসারী হওয়ার অধিকার ছিল।বলেন ভারত সরকার দেয়নি, তাই হয়নি। আপনি ঠিক বলেছেন কিন্তু রাজ্য সরকারের দায় থাকে তো। বলেন তাহলে বলবে ভূমি সংস্কার হয়নি। আমি হ্যাঁ হয়েছে, সেটা হয়েছে ভোট পাবার জন্য। বাড়িতে বেশি ভোট থাকলে সে পাট্টা পেয়েছে। ঐ জমি নিয়ে সম অংশীদারির চাষ করা যেত, যেটা কম্যুনিজম এর প্রথম ধাপ। আমি বললাম অনেক দিন আগে খবরের কাগজে পড়ে ছিলাম বিহারের শব্দগাঁয় দুই কম্যুনিস্ট পার্টির সদস্য মহেশ ও সরিতা ঐ গ্রামকে ঐ ভাবে ভূমি সংস্কার করে কম্যুনিস্ট গ্রামে পরিবর্তন করে ছিল। পরে তাদের প্রাণ গিয়ে ছিল দুষ্কৃতী দের হাতে। খুব রেগে গেলেন বললেন ভারতে এক দিন কম্যুনিজম আসবে। আমি বললাম ঠিক বলেছেন পশ্চিমবঙ্গে কম্যুনিজম এলো না তো কি হয়েছে ভারতে তো আসবে। আপনার আমার মত পঞ্চাশ পার করা লোক যারা কমরেড হতে পারলাম না। কমরেট হয়ে রয়ে গেলাম তারা বিপ্লব করে ফেলবো।