Monday, 10 December 2018

প্রাথমিক স্তরের ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও শিক্ষকদের ভূমিকা। কিন্তু মাধ্যমিক স্তরে।

পশ্চিমবঙ্গের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র ছাত্রীদের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা শিক্ষক দের চাঁদা না দেওয়া নিয়ে ভীষণ হৈচৈ হচ্ছে। বিভিন্ন সংবাদ পত্রে লেখা লেখি হচ্ছে। কিছু জায়গায় সরকারি অফিসার রা নোটিশ দিয়ে চাঁদা আদায় করছেন। যেমন সিঙ্গুর ব্লকের কামার কুণ্ড চচক্রের বিদ্যালয় পরিদর্শক হোয়াটস এ্যাপে মেসেজ পাঠিয়ে বলছেন, চাঁদা দেওয়াটা যেন বাধ্যতামূলক, কিন্তু আমি যতদূর জানি এই ক্রীড়া প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছিল প্রায় চল্লিশ বছর আগে, তখন শিক্ষকের চাঁদা ছিল না। আমি দেখেছি ১৯৯০ সাল পর্যন্ত কোন চাঁদা লাগতো না। তারপর দশ টাকা চাঁদা নেওয়া শুরু হয়। এই ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় যে স্তর থেকে ছাত্র ছাত্রীরা পঞ্চায়েত স্তরে বা অন্য স্তরের ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়, সেই বিদ্যালয় স্তর ছিল 
বরাবরের জন্য উপেক্ষিত। কোন কোন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও অভিভাবকদের চাঁদায় খেলা হতো। পুরস্কার দেওয়া হতো, কিন্তু বেশিরভাগ প্রাথমিক বিদ্যালয় চুন পর্যন্ত কিনত না। পঞ্চায়েত ক্রীড়া প্রতিযোগিতা পঞ্চায়েত খরচ করত খেলা ম্যারম্যার করত, এই খেলার যৌলস আনতে পঞ্চায়েত স্তর থেকে চক্র স্তর পর্যন্ত এমনকি মহকুমা ক্রীড়া পর্যন্ত চাঁদা নেওয়া শুরু হলো খেলা টাকে উৎসবে পরিনত করা হলো। সেই যে শুরু হয়েছিল সেটাই এখন বাধ্যতামূলক হয়ে গেছে, কিন্তু এই ছাত্র ছাত্রীরা যেই মাধ্যমিক স্তরে ভর্তি হলো তারপর কোন কোন মাধ্যমিক বিদ্যালয় স্তরের ক্রীড়া প্রতিযোগিতা করে ফেলল তো তাদের ছাড়। মাধ্যমিক স্তরের না আছে পঞ্চায়েত স্তর না চক্র স্তর না আছে মহকুমা স্তরের ক্রীড়া প্রতিযোগিতা। বিদ্যালয় স্তরের ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অভিভাবক দের থেকে বা ছাত্র ছাত্রীদের থেকে খেলার ফিস নেওয়া হয়। শিক্ষকদের কোনো চাঁদা লাগে না। প্রাথমিক শিক্ষকদের উপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে প্রশাসন কিন্তু মাধ্যমিক বিদ্যালয় গুলোর সময় ছাড়। আমার মাঝে মাঝে অবাক লাগে হাজারো কাগজ ফর্ম পূরণ করতে হবে। বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা করতে হবে, বিনা টাকায় সিসিই পরীক্ষা করতে হবে। সর্ব ধরনের চাপ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উপর।  মাধ্যমিক বিদ্যালয় গুলো সরকার পোষিত নয়! তারা নিজেরাই নিজেদের মতো সিদ্ধান্ত নিতে পারে তাদের কমিটির মাধ্যমে। এখন তো অনেক বিদ্যালয়ের পরিচালন কমিটির কোন অস্তিত্ব নেই। কারণ অভিভাবক প্রতিনিধি নির্বাচন হয় না। জানি না আমাদের মতো এদের বিদ্যালয় পরিদর্শক বা এ আই আছে কি না? এরা পশ্চিম বঙ্গের সরকারের অধীনে আছে না নেই। যদি থাকে তাহলে ভর্তি করতে এতো টাকা নেওয়া হয় কেন। কোথাও সব থেকে কম পাঁচ শো টাকা কোথাও সর্বোচ্চ হাজার টাকা। আর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভর্তি তো দূর পরীক্ষা বা মূল্যায়নের জন্য এক টাকাও নেওয়া যাবে না। বিদ্যুৎ বিল দেওয়ার জন্য এক টাকাও নেওয়া হয় না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই প্রধান শিক্ষক শিক্ষিকা তাদের পকেট থেকে দেন । কি সুন্দর একই রাজ্যে দু শিক্ষা ব্যবস্থা একটা সরকারের অধীনে কিন্তু টাকা পয়সা খরচের বা সর্ব দিক থেকে আলাদা। বেতন ফারাক বলছি না। আমি জানি না মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তার বেতন থেকে বিদ্যুৎ বিল দেয় কিনা! আরো অনেক কিছু লেখার ইচ্ছা ছিল কিন্তু আর লিখছি না। সকলে পড়বেন মন্তব্য করবেন। 

Sunday, 9 December 2018

ধন্যবাদ কলকাতার নতুন মেয়র তথা মন্ত্রী মশায়।

ছবি টি আজকাল ইন অন লাইন নিউজ পোর্টালে বেড়িয়ে ছিল।মন্ত্রী মশায় যতটা সম্ভব সবলা মেলায় গেছেন। মেলাটি যতটা সম্ভব কলকাতায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মন্ত্রী মশায় মেলায় জিনিস পত্রের বিক্রি দেখে বলছেন, রাজ্যের মানুষের আয় তিন গুণ বেড়ে গেছে। মন্ত্রী মশায়ের সংগে আমি একদম একমত। কারণ পশ্চিমবঙ্গের এমন অনেক সরকারি কর্মচারী আছেন যারা দশ হাজার টাকার কম বেতন পান। এই কর্মীদের সংখ্যা দিনের পর দিন বেড়ে চলেছে। বেসরকারি সংস্থার এমন কর্মী আছেন যাদের মাসিক বেতন পাঁচ হাজার টাকার কম। আর একশ দিনের রোজ সেতো মন্ত্রী মশায়ের অজানা নয়। দেড়শো টাকা মজুরি তে কাজ করে এরকম জন মজুরের সংখ্যা অসংখ্য। আর বর্তমানে সরকারি কর্মীদের ন-মাসের বেতনে বারো মাস কাজ করতে হয়। চাষিদের চাষের ফসল চাষ করতে যা খরচ হয়। ফসল বিক্রি করে অর্ধেক ওঠে। এখন আপনি আমি কপি কিনছি পনেরো কুড়ি টাকায়। চাষিদের থেকে কেনা হয়েছে তিন টাকা পিস দরে, কারণ দু তিন টি হাত ফিরে এসে ঐ দাম। যাদের মাধ্যমে সরকার বাজারে অর্থ যোগান দেবেন সেই সরকারি কর্মীদের বেতন নেই। বাজারে যখন টাকার যোগান কম তখন মানুষের ক্রয় ক্ষমতা বাড়ে কী করে?? আমি এরকম দেখেছি চাষি ফসল বিক্রি করতে না পেরে ফসল নষ্ট করে দিচ্ছে। সেদিন আর বেশি দূরে নেই যেদিন পশ্চিমবঙ্গের কৃষি কাজ কমে যাবে। এখনি অনেক কৃষক চাষবাস বন্ধ করে দিয়েছে বা নিজের খাবার মতো চাষ করছে। যার ফলশ্রুতিতে কৃষি শ্রমিক কমে গেছে, একশো দিনের কাজ করতে যাচ্ছে। অনেক কৃষক তার জমিতে কলা বাগান বা ঐ জাতীয় বাগান করে দিয়ে চাষ কমিয়ে দিয়েছে। তবে মন্ত্রী মশায়ের সংগে আমি একদম একমত কারণ কিছু জন নেতা তাদের আয় এতো বেড়েছে, যে তাঁকে সিকিউরিটি গার্ড নিয়ে ঘুরে বেড়াতে হচ্ছে। দেখছি তো জনগণের নেতা জনগণের সাথে মিশতে পারেনা। জনগণ কে ভয় করে, মানুষ কাজ হারিয়ে আজ বেকার। যে কটা জুট মিল বা কারখানা চালু আছে তাও আবার বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। কিছু কারখানার মালিক বলছেন তোলার এতো চাপ রাজ্য ছেড়ে চলে যাবে। এই আজকের অন লাইন নিউজ পোর্টালে বেড়িয়ে ছিল, খবরটা পড়েছিলাম।
ভাবছেন এই কারখানার ছবি টি কেন দিলাম। আজকে পড়ে ছি তোলার চাপে রাজ্য ছেড়ে চলে যাওয়ার কথা ভাবছেন। এই কারখানার মালিক, এবার সকলে চিন্তা করুন নতুন কারখানা হচ্ছে না। যেটুকু ছিল তাও বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। কাজ না থাকলে মানুষের আয় বাড়ল কী করে? আমি তো মন্ত্রী মশায়ের সংগে একমত আপনারা একমত হলে জানাবেন। 

Saturday, 8 December 2018

বাঙালির জীবন থেকে কাঁটা তার গেল না।

১৯৪৭ সালের ১৫ ই আগস্ট ভারত বর্ষ তিন টুকরো করে স্বাধীনতা পেয়েছিল। কত গুলো ক্ষমতা লোভী ইংরেজে দের দালাল ভারত ভাগ করে স্বাধীনতা নিয়ে আনন্দ আত্মহারা হয়ে গদিতে বসে ছিল। ভারত ভাগ হয়ে ছিল ধর্মের ভিত্তিতে, হিন্দুস্থান আর পাকিস্তান। হিন্দু দের জন্য হিন্দু স্থান আর মুসলিম দের জন্য পাকিস্তান। সেই সময় মুসলিমরা তাদের অংশ ঠিক বুঝে নিয়ে ছিল। হিন্দুস্থানের ক্ষমতা লোভী মহান নেতা দেশটাকে ধর্ম নিরপেক্ষ ঘোষণা করে নিজেদের আরও মহান প্রমাণ করতে উঠে পরে লাগল। এই সব মহান মহাপুরুষ নেতার দল আনন্দে আটখানা হয়ে যে দুটো প্রদেশ কে ভাগ করে দিয়ে ছিলেন। সে দুটো হলো বাংলাদেশে আর পাঞ্জাব। বাংলার অংশ নিয়ে তৈরি হলো, পূর্ব পাকিস্তান আর পশ্চিমবঙ্গ। আর পাঞ্জাবের অংশ নিয়ে তৈরি হলো পশ্চিম পাকিস্তান। কারণ স্বাধীনতা আন্দোলনের পুরোভাগে সর্বদা এগিয়ে ছিল বাংলা। এখন আর সেই নেতাজী নেই সে নেতার খুব অভাব আছে। স্বাধীনতা সময় থেকে এপার বাংলায় যারা এসেছেন ভিটে মাটি ছেড়ে তাদের সঠিক ভাবে বাস করার সুযোগ দেওয়া হয়নি। স্বাধীনতার সত্তর বছর পরেও সেই সব ছিন্ন মূল মানুষ গুলো জন্যে এপার বাংলার সরকার তেমন কিছু করেনি। দিল্লির নেতাদের পোঁ ধরা নেতা রা সুভাষ চন্দ্র বসু তথা নেতাজি যাতে ফিরে আসতে পারে তার ব্যবস্থা করেনি। পদ আর ক্ষমতার লোভে দিল্লির একটি পরিবারের পোঁ ধরে বাংলা তথা বাঙালির জন্য কিছু করেন নি। এখন তো সেই নেতা নেই, বাংলায় নেতাজি, রাস বিহারী বসু চিত্তরঞ্জন দাশ আর কতো নাম নেব। এখন বিবেকানন্দের জন্ম দিন বিবেক চেতনা উৎসব হয়,এক সপ্তাহ ধরে, কিন্তু নেতা দের বিবেক জাগ্রত হয় না। টিভি চ্যানেলে দেখা যাচ্ছে ঘুষ নিচ্ছে, তবুও বলছে আমি টাকা নিইনি। সারদা মাকে সারা বিশ্ব বন্দনা করে। তার নামে সংস্থা খুলে প্রতারণা, গরীব বড়ো লোক সকল কে লোভ দেখিয়ে টাকা খেলি আর সত্যি কথা বলতে মানা। এরা বিবেক চেতনা উৎসব করছে, কারণ এরা দিল্লির একটি পরিবারের পোঁ ধরা নকল নেতা। দিল্লির ঐ নেতারা যেমন নকল স্বাধীনতা সংগ্রামী সেজে ইংরেজ দের বলে বলে জেলে যেত। একজন তো লর্ড মাউন্ট ব্যাটেনের পোষ্যপুত্তর, এবং বাঙালি বিদ্বেষী সেই জন্যই পশ্চিমবঙ্গের তথা বাংলার দূর্দাশায় তাদের মন ছিল না।স্বাধীনতার পর থেকে এপার বাংলার দিল্লির একটি পরিবারের পোঁ ধরা নেতারা ক্ষমতা দখল করে রেখেছে। সেই কারণেই কিছু ভারতের ভুখণ্ড এবং সেখানে বসবাস কারি কিছু মানুষ কে বাদ দিয়ে রেখে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া হয়েছে। আর সেই সব মানুষদের বিভিন্ন কাজে মূল   ভু খণ্ডে আসতে হয়, এবং সে টা ঘটে দিনের বেলা। রাত বিরাত কিছু দরকার হলে উপায় নেই পরের দিন সকাল না হওয়া পর্যন্ত। যদি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে তাহলেও না। স্বাধীনতার সত্তর বছর পরেও বাঙালির তথা ওপার বাংলা থেকে আসা মানুষের দুঃখের দিন শেষ হলো না। 


Saturday, 1 December 2018

সেরিকালচারের সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মীদের বেতন বন্ধ।

আজ বিকেলের অন লাইন খবর কাগজে ছবি টি বেড়িয়ে ছিল। ঐ কাগজের খবর অনুযায়ী আজ প্রায় আট মাস ধরে বেতন পাচ্ছেন না এখানকার নিরাপত্তা কর্মীরা। গত ২০১০ সালে এদের নিয়োগ করা হয়েছিল। আমি এর আগের লেখায় লিখছি, দিদির টাকা দিদি কাকে বেতন আর কাকে দেবেন না। সে সিদ্ধান্ত তিনি নেবেন, ঐ সিদ্ধান্ত যে তিনি আগেই নিয়েছেন জানতাম না। ধন্যবাদ দিদি আমার পক্ষ থেকে আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আপনি ঠিক করেছেন, তবে যে যে আন্দোলন করছে তাদের শুধু নয়, আপনি একটা আইন করে দিন পুলিশি সরকারি কর্মী শিক্ষকের পঞ্চায়েত কর্মী প্রত্যেকের অর্থাৎ আপনার টাকায় যাদের বেতন হয় সবার বেতন বন্ধ করে দিন। প্রধানমন্ত্রী হবেন অনেক টাকা দরকার শুধু শুধু এদের টাকা দিয়ে লাভ নেই। বেশি বাড়াবাড়ি করলে ঐ যে পঞ্চায়েত ভোটে বীরভূমের মতো উন্নয়ন কে ডেকে নারকেল মুড়ি খাওয়ার ব্যবস্থা করে দেবেন। যেন মনে করেছেন বাম রাজত্ব যা খুশি তাই করবে কাজ না করে আন্দোলনে করবে। আপনার টাকা আপনি কি করবেন না ঐ সব কর্মীদের খেয়ে কাজ নেই, যা দিচ্ছে নে তা নয় আরও দাও। আমি শুনলাম আপনি মিড ডে মিলের জন্য থালা গ্লাস দেবেন। ভালো সিদ্ধান্ত আর কাগজের থালা কিনতে হবে না। একটা ভয় আছে ছেলে মেয়ে রা ব্যাগে ভরে নিয়ে না পালায়। খুব ভালো কাজ একদম বেতন বন্ধ করে দিয়ে আপনি আপনার টাকা ইচ্ছে মতো খরচ করুন ।আমরা আপনাকে প্রধানমন্ত্রী দেখতে চাই । 

Friday, 30 November 2018

মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী আমার পুজোনীয় দিদি।

পুজোনীয় দিদি প্রথমে আপনি আমার সশ্রদ্ধ প্রণাম নেবেন। আজ অন লাইন নিউজ পোর্টাল, আজ বিকেলের একটি খবর আপনি, কানলার সভা মঞ্চ থেকে সরকারি কর্মীদের সাবধান করে বলেন। টাকা নেই খালি দাও দাও, কাজ না করে খালি দাও দাও কিছু বাম আমলে নিয়োগ পাওয়া কর্মী এসব করছে। আপনি একদম ঠিক কথা বলেছেন, আপনার সাথে আমি একমত সত্যিই আপনি কন্যাশ্রী, রূপশ্রী, নিজশ্রী, যুবশ্রী দু টাকা কিলো চাল বিনা পয়সা চিকিৎসা,অনেক রাস্তা করেছেন, গ্রামের অলিতে গলিতে ঢালাই রাস্তা। যদি এই সব রাস্তা তাড়াতাড়ি ভেঙে যায় আপনার কী করার আছে। খেলার উন্নতির ক্লাব কে টাকা দিয়েছেন। পুজো করার টাকা দিয়েছেন, আরও কত কী করছেন। এইতো কটা দিন আগে পার্শ্বশিক্ষক দের সিভিক ভলেন্টিয়ার দের আই ডি এস কর্মী দের বেতন বাড়িয়ে আবার কেটে নিয়েছেন। আমি কাগজে পড়েছি, ঠিক করেছেন। আপনি ঠিক বলেছেন বামফ্রন্ট সরকার এদের মাথায় তুলে রেখেছিল। বছরে দুবার ডিএ পাঁচ বার পে কমিশন ।একবার দুমাস ডিএ দিতে দেরি হয়ে ছিল। মহাকরণে ভাঙচুর আন্দোলন শুরু করে ছিল। তবুও কিছু বলেননি বামফ্রন্ট সরকার। না দিদি কথা টা আমার নয় whatsapp এ ভিডিও ফুটেজ দেখে লিখছি। কে একজন ফেডারেশন নেতা বলছিলেন, শুনলাম আপনি তাকে সহ যারা কাল আন্দোলন করছিল। তাদের বদলি করে দিয়েছেন, আপনি এতো উন্নয়ন করছেন। তাছাড়া আপনার খাটুনি কত, সারা রাজ্যে আপনি ঘুরে বেড়াচ্ছেন। এখন তো আবার কপটার চড়ে ঘুরছেন। খরচ কত ওরা জানে না, আপনার টাকা আপনি নাও দিতে পারেন। এই সরল কথা টা এরা কবে বুঝবে। দিদি আপনি একটা কাজ করতে পারেন পুলিশ সহ আই পি এস আই এস সমস্ত কর্মীদের বেতন বন্ধ করে দিন। আপনার টাকা আপনি কেন দেবেন, তাতে আগের সরকারের দেনা শোধ হবে। আপনি রাজ্য টা সোনার বাংলা করবেন বলেছিলেন, সেটাও পূরণ হয়ে যাবে। আপনা আপনা কে প্রধানমন্ত্রী হয়ে যাবেন আর কেন্দ্রীয় কর্মীদের ডিএ না দিয়ে পে কমিশন বন্ধ করে দেবেন। আপনি দেশের দশের জন্য এত কিছু করবেন, গরীব বলে কিছু থাকবে না। আর কর্মীরা আন্দোলন করলে এর পর ঐ আপনি অনেক দিন আগে বীরভূমের এক সভায় বলছিলেন, নারকেল মুড়ি খেতে দেওয়ার কথা। ওটা সত্যিই নারকেল মুড়ি তো আপনার ভাইয়েরা কারখানা করে ফেলেছে। আপনি নবান্ন আর ঐ শিক্ষকদের সব নারকেল মুড়ি খাইয়ে দিন না। আপনার টাকা আপনি কাকে দেবেন না দেবেন আপনি সিদ্ধান্ত নেবেন তা নয়। আন্দোলন করে উন্নয়ন পিছিয়ে দিচ্ছে। 

Monday, 26 November 2018

মাননীয়া শিক্ষা মন্ত্রীর অবগতির জন্য।

মাননীয় শিক্ষা মন্ত্রী আপনি সব টা মনে হয় জানেন। হয়তো বা কম বেশি জানেন, বা জেনেও অন্য কথা বলছেন। আপনি আপনার শিক্ষক সংগঠন কে সরকারের সাফল্য প্রচার করতে বলছেন। সে আপনি বলতে পারেন। আপনার দলের নামে শিক্ষক সংগঠন। পশ্চিমবঙ্গের আর কোনো শিক্ষক সংগঠন কোনো রাজনৈতিক দলের নামে নেই। আপনি নিখিল বঙ্গ শিক্ষক সংগঠন কে বামপন্থী শিক্ষক সংগঠন বলছেন। আমি বলছি নিখিল বঙ্গ শিক্ষক সংগঠনের সকলে বামপন্থী নয়। যদি তাই হতো তবে বামফ্রন্ট সরকার হেরে যেত না। অনেক শিক্ষক আছেন যারা শিক্ষক আন্দোলনের ইতিহাস জানেন না। আপনি হয়তো জানেন যে নিখিল বঙ্গ শিক্ষক সংগঠন তৈরি হয়েছিল, ১৯৩৫ সালে। যে সংগঠন কে  নেতৃত্ব দিয়েছিলেন মাষ্টার দা সূর্য সেন ।আর সি পি আই এম  পার্টির জন্ম ১৯৬৭সালে, বামফ্রন্ট সরকার তারও পরে। আপনি নিশ্চয়ই জানেন যে ১৯৫৮ সালের আগে শিক্ষকদের কোনো বেতন কাঠামো ছিল না। আপনি হয়তো এও জানেন যে ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জহর লাল নেহরু বলেছিলেন যে এরাজ্যে শিক্ষকের বেতন তার বাড়ির চাপরাশির থেকে কম।আপনি হয়তো জানেন ১৯৬৭ সালে যুক্তফ্রন্ট সরকার ক্ষমতায় এসে শিক্ষকদের জন্য কিছু আইন করেন। যার মধ্যে একটা ছিল শিক্ষকের আবেদন ছাড়া তাকে বদলি করা যাবে না। ঐ সরকার প্রথম পে কমিশন গঠন করে ছিল। যেখানে শিক্ষক সহ আরও অনেক কর্মী কে তার আওতায় নিয়ে আসা হয়েছিল। শিক্ষক সহ সমগ্র সরকারি কর্মীদের দূর্ভাগ্য সেই সরকার কে ১৯৬৯ সালে ভেঙে দেওয়া হয়। জরুরি অবস্থা জারি করে দেওয়া হয়েছিল। সেই জন্যই পশ্চিমবঙ্গের কর্মী কুল ষষ্ঠ বেতন কমিশন পায় আর কেন্দ্রীয় কর্মীদের সপ্তম বেতন কমিশন। এতো সত্ত্বেও বামফ্রন্ট সরকার কর্মী দের কেন্দ্রীয় সরকারের হারে বেতন দিয়ে গিয়েছে। ১৯৬৯ সালে নির্বাচিত যুক্তফ্রন্ট সরকার ভেঙে দেবার পর, বেছে বেছে সেই সব শিক্ষক কে যেখানে সেখানে বদলি করে দেওয়া হয়েছিল। শিক্ষক যদি বদলি অস্বীকার করেছেন তবে তাকে মুচলেকা দিতে বাধ্য করা হয়েছিল। না মুচলেকা দিলে সাময়িক বরখাস্ত করা হতো। আমার বাবা এগারো মাস সাময়িক বরখাস্ত (suspended) ছিলেন এখন যে টা প্রায় হচ্ছে, নিখল বঙ্গ করেছ তবে তোমায় বদলি করে দেওয়া হবে। নয়তো বিভিন্ন রকম ভাবে খুঁত খুঁজে বের করে এনে তাকে সাময়িক বরখাস্ত (suspended) করে রাখ। এরকম সাময়িক বরখাস্ত শিক্ষক কত আপনি   নিশ্চয়ই জানেন। বিভিন্ন রকম লোক নিয়োগ করে রেখেছেন, খুঁত খোঁজার জন্য।সিঙ্গুরে ফনী বাবু বলছেন যেখানে ধমক দিয়ে কাজ হবে। কথা টা হয়তো পাল্টে ফেলবেন, সেই জন্য ভাবছি এবার এলে ওনার সব কথা ও কাজ রেকর্ড করে রাখব। আপনি বলেছিলেন শিক্ষকরা তাদের দাবি গুলো জানে না। আমি বলেছি উস্থি নামক সংগঠনের উদ্ভব হয়েছে, নিখল বঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি কে ভেঙে দিতে। আপনি ও দেখছেন আমরা ও দেখছি, যে শুধু নিখিল বঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি নয়। আপনার দলের অনেক শিক্ষক ঐ নতুন দলে বা সংগঠনে যোগ দিয়েছেন ।এবার শিক্ষকদের দাবি গুলো লিখছি, কারণ আপনি বলেছেন অনেক শিক্ষক দাবি গুলো জানে না। উস্থি এই নতুন সংগঠনের একটাই দাবি PRT স্কেল। আমি বা নিখিল বঙ্গ   প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি মনে করে PRT স্কেল প্রাথমিক শিক্ষক দের পাওয়া দরকার। তবে এখন এইচ এস স্কেল দিন। কারণ পশ্চিমবঙ্গের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা অন্য রাজ্যের থেকে বেশি, এখানে পি আর টি স্কেল দেওয়া সম্ভব নয়। তাই PB2 থেকে PB3 সর্বোচ্চ গ্রেড পে ৩৯০০ টাকা দিয়ে এইচ এস স্কেল। ডিএ পে কমিশন, আর প্রতিহিংসা মুলক বদলি করা যাবে না। এখন আবার নতুন ভাবে বদলির চিঠি আসছে। এক চক্র থেকে অন্য চক্রে স্থায়ী ড্রাফট হয়ে আসছে। স্বাক্ষর করেছে দুবছর আগে চেয়ারম্যান বা সভাপতি। এই ড্রাফটের নিয়ম ছিল যেখানে সিংগেল টিচার হয়ে যাচ্ছে, বা গেছে সেখানে এস আই এস সেই চক্রের যে বিদ্যালয়ে বেশি শিক্ষক আছেন, সেখান থেকে একজন কে ঐ বিদ্যালয়ে পাঠাবেন। এই নিয়ম টা কে এখন সভাপতি ব্যবহার করছেন, যে হেতু তিনি সভাপতি নেই, তাই তারিখ থাকছে দুবছর আগের। কি অদ্ভুত আর কী সুন্দর ব্যবস্থাপনা। সেই জন্যই নিখিল বঙ্গ দাবি সচ্ছ বদলি নীতি, প্রতি হিংসা থাকবে না। আবেদনের ভিত্তিতে বদলি চাই। আরেক টা দাবী বর্তমান সিলেবাসের আমুল পরিবর্তন, প্রাক প্রাথমিক থেকে দ্বিতীয় শ্রেণি পর্যন্ত বাংলা, অঙ্ক, ইংরেজি, আর তৃতীয় শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত বাংলা, অঙ্ক, ইংরেজি, ইতিহাস, ভূগোল, বিজ্ঞান থাকবে। আরেক টা দাবী প্রতি বিদ্যালয়ে আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা করতে হবে। কম্পিউটার দিতে হবে। পাঠ্যবিষয় বেশিরভাগটাই আধুনিক অনলাইন করতে হবে। প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলো কে আধুনিক projector দিতে হবে। প্রাক প্রাথমিক ছাত্র ছাত্রীদের পোশাক দিতে হবে। আধুনিক শ্রেণি কক্ষের ব্যবস্থা করতে হবে। মি ডে মিলের টাকা দশ টাকা করতে হবে। সময় মতো সব বই বিদ্যালয়ে পৌঁছে দিতে হবে। সর্বশিক্ষা অভিযানের নাম করে গোছা গোছা ফর্ম ফিলাপ বন্ধ করতে হবে। এই ফর্ম পূরণ করে কোনো বাস্তব কাজ হয় না। শিক্ষক দের শিক্ষা বর্হিভূত কাজে নিয়োগ করা যাবে না। বিদ্যালয় গুলোর বিদ্যুৎ বিল সরকার কে মেটাতে হবে। পূর্বের চালু খুচরা খরচ জন্য টাকা দেওয়া হতো। সেটি চাল করতে হবে।  বর্তমানে আরেকটা দাবি উঠেছে বিদ্যালয় স্তর থেকে টাকা বরাদ্দ করতে হবে। না হলে এবছর বিদ্যালয় স্তর থেকে খেলে পঞ্চায়েত স্তরে যাচ্ছে। আগামী বছর স্কুল স্তর বন্ধ হয়ে যাবে। খেলা করতে হবে, এই আদেশ পাঠিয়ে দিলাম ওতে আর হবে না। কারণ ক্লাব থেকে প্রায় সর্বত্র টাকার ছড়াছড়ি আর খেলা শিক্ষার অঙ্গ বলে টাকা নেই। এসব আর হবে না, আপনি বা আপনারা সবাই সততার প্রতীক।আশা করি সব টা সত্যিই বলছেন, বামফ্রন্ট সরকার দেনা রেখে গেছে। আমার যতদূর জানা আছে সব রাজ্য সরকারের দেনা থাকে, সরকার পরিবর্তন হলে সেই দেনা ঐ সরকার বহন করে। কারণ ঐ দেনা কোনো রাজনৈতিক দলের নয়। আমার সংগ্রহ করা একটি তথ্য দিলাম ছবি সহ।
আপনারা সততার প্রতীক, আপনাদের দেখে আমরা শিখব। আপনি বলেছিলেন শিক্ষকরা তাদের দাবি কী জানে না। উপরে অনেক গুলো লিখেছি। আরও আছে দিচ্ছি, 
আপনি বলছিলেন এই দাবি ২০০৯ সালের তাহলে আপনি স্বীকার করে নিয়েছেন। নিখিল বঙ্গ শিক্ষক সমিতি বাম আমলে ও আন্দোলন করত। ঠিক বলেছেন, তবে তখন ডিএ পে কমিশন নিয়ে দাবি করতে হয়নি। কারণ তারা দেনার অজুহাত দিয়ে ডিএ বা পে কমিশন বন্ধ করে দেয় নি। আর মি ডে মিলের টাকা বাড়ানোর দাবি কেন্দ্র যখনই বাড়িয়েছেন, রাজ্য সরকারও বাড়িয়েছেন। সেই কারণেই ২ টাকা ৮০ থেকে বেড়ে ৩ টাকা ৮৪ পয়সা হয়ে ছিল। সিলেবাস পরিবর্তনের দাবি সেও অনেক বার মেনে নিয়েছে। আপনারা ২০১২ সাল থেকে মৃত শিক্ষকের পরিবারের যোগ্য প্রার্থীর চাকরি বন্ধ করে দিয়েছেন। আর টি ই আইন দেখিয়ে, উক্ত আইন অনুযায়ী ভর্তি করেছেন। যাতে বাবা মা কে সন্তান জন্ম দিতে হবে ১ লা জানুয়ারীর মধ্যে, অথচ বেসরকারি বিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে ওসব নিয়ম নেই। যে পাঁচ বছরের বাচ্চা কে জি তে বাংলা অঙ্ক ইংরেজি পড়ে এলো সে মজারু কুটুম কাটাম পড়ছে। আর টি ই আইনের দোহাই দিয়ে পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষা ব্যবস্থা কে ধ্বংস করার  কেন্দ্রীয় পরিকল্পনা আপনারা বাস্তব করে ছেড়ে দিচ্ছেন। এই সব বই বা সিলেবাসের জন্য অধিকাংশ বাবা মা তাদের সন্তানদের আর সরকারি বিদ্যালয়ে ভর্তি করছে না । অনেক বিদ্যালয় বন্ধ হয়ে গেছে, অনেক বিদ্যালয় বন্ধ হবার মুখে। তার উপরে শিকক নিয়োগ সে আর বলে কাজ নেই। পরিশেষে বলি যদি পড়েন, তবে আমার প্রণাম নেবেন। আর দাবি গুলো পূরণ করে দেবেন, আর আর টি ই আইন সংশোধন করে পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষা ব্যবস্থা কে বাঁচাবেন কেমন। 

Sunday, 25 November 2018

প্রাথমিক শিক্ষক দের বিচিত্র সব কাজ কর্ম।

আজ একটি অন লাইন নিউজ পোর্টালে পড়লাম।পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষা মন্ত্রী তাঁদের দলের শিক্ষক সংগঠন। তৃণমূল কংগ্রেস শিক্ষা সেলের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক দের নিয়ে বৈঠকে বসেন। সেখানে তিনি বাম পন্থী শিক্ষক সংগঠনের মতো তার দলের শিক্ষক দের সরকারের সাফল্য প্রচার করতে বলেন। আমি এখানে প্রথমেই শিক্ষা মন্ত্রীর অবগতির জন্য জানাই, বামপন্থী বা সি পি আই এমের নিজস্ব কোনো শিক্ষক সংগঠন নেই। নিখিল বঙ্গ শিক্ষক সমিতি বামেদের সমর্থন করে এসেছে, বা তাদের মধ্যে অনেক শিক্ষক বামেদের সমর্থন করে। এর একটা ইতিহাস আছে, কারণ নিখিল বঙ্গ শিক্ষক সংগঠন মাষ্টার দা সূর্য সেনের মতো নেতৃত্ব পেয়েছে। তখন সি পি আই এম পার্টি তৈরি হয়নি। তাহলে নিখল বঙ্গ শিক্ষক সমিতির অধিকাংশ শিক্ষক সমর্থন করে কেন? কারণ টা আপনিও জানেন, কিন্তু আপনারা মানেন না। আপনারা কেবল ভয় দেখিয়ে নিজের দলে নেওয়ার চেষ্টা করে চলেছেন। এভাবে বেশি দিন চলে না। তারাই আপনার দলে থাকবে যারা আপনাদের ভয় পায়। আপনি নিশ্চয়ই শুনেছেন ভয়ে ভক্তি, কিন্তু এই ভয়ে থাকা মানুষ গুলো যখন ভয় কাটিয়ে রুখে দাঁড়াবে তখন ক্ষমতায় থাকতে পারবেন তো!