Sunday, 25 November 2018

ফুটপথের অঙ্কন শিল্পী ।

আমি গত কাল সন্ধ্যায় সাড়ে ছটা নাগাদ সিঙ্গুর স্টেশনে নেমে একজন নাম না জানা অচেনা অতিথি শিল্পী কে দেখলাম ।যিনি আঁকা ও লেখায় দক্ষ, অনেকে তাঁর আঁকা ও লেখা দেখে দাঁড়িয়ে পড়ছে। মোবাইল ফোনে ছবি তুলছে, আমিও ছবি তুলেছি । লেখা কথা গুলো মনে হয় বানী। আর লিখছি না আরো দু একটা ছবি দিলাম।

Thursday, 22 November 2018

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের খেলা ও শিক্ষকদের ভূমিকা।

শিরোনাম দেখে বোঝা যাচ্ছে, বর্তমানে শিক্ষকরা বিভিন্ন জায়গায় খেলার চাঁদা দিতে অস্বীকার করছেন। অনেক সংবাদ পত্রের খবর যে ডিএ এবং পে কমিশন বা পি আর টি স্কেল দিচ্ছে না। তাই এই চাঁদা না দেওয়ার হিড়িক পড়ছে। শিক্ষক দের নিয়ে তৈরি হওয়া নতুন সংগঠন অন্তত তাই বলছে। আমি এগুলো নিয়ে একমত, কিন্তু পি আর টি স্কেল ঐ বেতন পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষকদের দেওয়া মানে সরকারের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক দের বেতন দিতে রাজ্যস্বের অনেক টাকা খরচ করে দিতে হবে। কারণ পশ্চিমবঙ্গে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা অনেক বেশি অন্যান্য রাজ্যের মতো নয়। এখানে গ্রামে গ্রামে বিদ্যালয়, তবে স্কেল পরিবর্তন করে গ্রেড পে বাড়ানো যেতে পারে। অনেক বলতে শুরু করেছেন, তোমরা মানে শিক্ষকরা বাম আমল থেকে শুরু আজ পর্যন্ত চাঁদা দিয়ে আসছে তাহলে তখন অর্থাৎ বাম আমলে প্রতিবাদ হয়নি কেন? প্রতিবাদ হয়েছে এবং বেশ কিছু শিক্ষক চাঁদা দেননি। কারণ চাঁদা সে নাও দিতে পারে। তবে এখন কার মতো এতো বড়ো প্রতিবাদ আগে হয়নি। অনেকেই যে বলছেন ডিএ পে কমিশনের জন্য, আমি বলছি কেবল ঐ কারণের জন্য নয়।
সমগ্র রাজ্য বাসির সাথে শিক্ষকরা দেখছেন, বর্তমান সরকারের উন্নয়ন এবং সরকারি কোষাগার থেকে অর্থ দান। এই রকম অর্থ দান বাম আমলে শিক্ষক কেন, কোন রাজ্য বাসি দেখে নি। মারা শসান খরচ, কন্যাশ্রী রূপশ্রী যুবশ্রী বঙ্গশ্রী আরও আমার অনেক শ্রী আছে আমার ঠিক এই মূহুর্তে মনে পড়ছে না। সম্প্রতি দুর্গা পূজার কমিটি কে চাঁদা দেওয়া, কার্নিভাল, ক্লাব গুলো কে খেলার উন্নয়নের জন্য টাকা দেওয়া, দেখার দরকার নেই মদ খেয়ে বেড়াতে গিয়ে খেলার উন্নতি হচ্ছে কিনা। এদিকে কী কেন্দ্র সরকার কী রাজ্য সরকার কোন সরকারের নজর নেই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের খেলার প্রতি। বিদ্যালয় স্তরের ক্রীড়া প্রতিযোগিতা যে টুকু টাকা খরচ হোক করবে শিক্ষক। পঞ্চায়েত স্তরের ক্রীড়া প্রতিযোগিতা চক্র স্তর এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে মহকুমা স্তরের ক্রীড়া প্রতিযোগিতা পর্যন্ত শিক্ষকের চাঁদা দিতে হয়। অথচ প্রচার সর্বস্ব সরকার বিভিন্ন ভাবে প্রচার করে যাচ্ছে, ক্রীড়া বা খেলা শিক্ষার অঙ্গ। চার পাশে বিভিন্ন ভাবে সরকারি টাকা খরচ করা হচ্ছে। আর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্রীড়া প্রতিযোগিতার জন্য টাকা নেই। কোন কোন জায়গায় বিদ্যালয় পরিদর্শক ও পঞ্চায়েত প্রধান টাকা দিতে চাপ সৃষ্টি করছেন। আবার উল্টো টাও আছে, পঞ্চায়েত তাদের তহবিল থেকে টাকা দেওয়ার পরিমান বাড়িয়ে দিয়েছে। যারা আমার এই লেখা পড়ছেন। তাদের কাছে আমার প্রশ্ন আপনারা বলুন, এই পরিস্থিতিতে শিক্ষকের চাঁদা তুলে খেলা বা ক্রীড়া প্রতিযোগিতা কে উৎসবে পরিণত করা ঠিক?



Sunday, 18 November 2018

ভারতের ভোটার আর নেতা মন্ত্রী।

আমি একজন ভারতীয় তবুও বলছি, যে ভারতের স্বপ্ন বিবেকানন্দ থেকে বিভিন্ন মহাপুরুষ বলে গেছেন, তারা এই ভারতের এই রূপ চাননি। একটা দেশ এক দেশের আমরা অধিবাসী কিন্তু ছবি টি দেখলে বুঝতে পারবেন এরা দীর্ঘ দিন খেতে পায় নি। এরা আজ ভারতের বুকে বেশি সংখ্যক মানুষ যারা একবেলা খেতে পায় আবার কোথাও কোন দিন জোটে না। আমি জানি না এরা ভোট দিতে পারেন কিনা ? আমি ধরে নিচ্ছি এরা ভোট দিয়ে সরকার তৈরী করতে সাহায্য করল। যারা ভোট পেয়ে নির্বাচিত হলেন, সরকার তৈরী করলেন। সেই সরকারের দায়িত্ব থাকে কিনা সকল জনগণ তিন বেলা না হোক, দুবেলা দুমুঠো খেয়ে ঘুমতে যাক। স্বাধীনতার পর সংবিধানের অনেক ধারা উপধারা আছে অনেক সংরক্ষণ আছে, সে সব সুবিধা ওদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কথা যাদের তারা রইল নিস্ক্রিয়। এর আগের লেখায় লিখেছি, নেতারাও সিদ্ধান্ত নিলেন সংবিধানের অন্তর্ভুক্ত হলো, কিন্তু যে স্থানীয় নেতা এবং অফিসার কার্যকর করবেন তিনি তার দায়িত্ব পালন করলেন না।
স্বাধীনতার সত্তর বছর পরেও আমরা বিভিন্ন খবরের কাগজ পত্র পড়ে জানতে পারি, দেশের মোট সম্পদের আশি শতাংশ ভারতের পঁচিশ শতাংশ মানুষের দখলে। বাকি পঁচাত্তর শতাংশ মানুষ কুড়ি শতাংশ ভোগ দখল করে।  স্বাধীনতার সময় সংবিধানে সংরক্ষণ করা এবং শিক্ষা সকলের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। স্বাধীনতার সত্তর বছর পরেও এরা অনেক কিছু থেকে বঞ্চিত। তার একমাত্র কারণ যারা ক্ষমতা দখল করে ইতিহাসের পাতায় নাম তুলতে ব্যস্ত ছিলেন। তারা ঘোষণা করে সেই সব প্রচারের মাধ্যমে বার বার ক্ষমতা দখল করে গেছেন, কোনো কাজ করেন নি। আমরা এখনও দেখি সেই ট্যডিশন বা তার ধারাবাহিকতা চলছে। আমাদের বা এদের ভোট নিয়ে নেতা মন্ত্রী হলেন, ভুলে গেলেন প্রতিশ্রুতির কথা। তিনি বছর বছর বাড়ির তলা বাড়িয়ে চলেছেন, গাড়ির সংখ্যা বাড়ছে স্বনামে বেনামে সম্পত্তি বাড়ছে, আর এসব কাজ যে সব সরকারি অফিসারের করার কথা তারাও হাত গুটিয়ে বসে আছেন, নেতার ভয়ে বা উপর ওলার ভয়ে। একটা আশ্চর্য বিষয় যখন দেখা যাচ্ছে কোন অঘটন ঘটছে, সে কেউ না খেতে পেয়ে মারা যান তখন সেই অফিসার দল বল নিয়ে হাজির, তাদের খবর নেওয়ার জন্য। নেতারা ভালো মন্দ রান্না করে খাওয়াচ্ছেন, কিন্তু কী আশ্চর্য সরকারের ব্যবস্থা আছে একশো দিনের কাজ প্রকল্প, যদিও সঠিক লোক কাজ পায় না। আবার কাজ না করে অনেকের ব্যাঙ্কের খাতায় টাকা আসে, তাতে নেতারা ভালো ভাগ পায়। এরা গরিব মানুষ এরা হয়তো ভাগ দেয় না, আবার দেখা যাবে এদের হয়তো জব কার্ড নেই। সরকারি প্রকল্পের দু টাকা কিলো চাল পাওয়ার কথা, দেখা যাবে সেই দু টাকা কেন দু পয়সা তাদের নেই। দোষ কার এসব সরকারের প্রকল্পের সুযোগ এদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব কাদের প্রথম যাদের কথা আসে তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটে জিতে নেতা বা ঐ দলের যারা ভোটের সময় মানুষ কে ভোট দিতে বলেছেন। এই সব নেতারা সঠিক তথ্য দেবেন, বা সরকার তার অফিসের লোক দিয়ে তথ্য সংগ্রহ করে সঠিক পদক্ষেপ নেবেন। দায়িত্ব থেকে যায় ঐ এলাকার সরকারি অফিসার দেরও, এই তারা এড়িয়ে যেতে পারেন না। সকলে সঠিক ভাবে দায়িত্ব না পালন করলে, বাম আমলে আমলাশোল আর এই সরকারের আমলে পূর্ণপাণি মতো ঘটনা ঘটে যাবে যত্রতত্র। সরকারি প্রকল্পের সুবিধা সঠিকভাবে ঠিক ঠাক মানুষ কে পৌঁছে দিতে নেতা মন্ত্রী দের যেমন দল ভুলে কাজ করতে হবে, ও আমার দলের ও পাবে, সে দোতলা বাড়ি থাক আর সরকারি বা বেসরকারি ভালো বেতনের চাকরি করুক তাও পাবে। আর খেটে খাওয়া গরীব মানুষ ভোট দিয়ে আমাকে নেতা মন্ত্রী করবে সে আশা না করাই ভালো। নজরুল ইসলামের একটি কবিতা "কুলি মজুর" কবিতা টি আসলে সাম্যবাদী থেকে নেওয়া, সেই কবিতার দু টি লাইন লিখতে বাধ্য হলাম। " তোমরা শুয়ে রবে, তে তলার 'পরে। অথচ তোমারে দেবতা বলিব সে ভরসা, আজ মিছে।সিক্ত যাদের মন এ মাটির মমতা রসে, এ ধরণীর তরণীর হাল রবে তাহাদেরি বশে।" 

Saturday, 17 November 2018

দেশের প্রশাসন পরিচালনা করে যারা।

আমরা বিশ্বের বৃহত্তম গনন্তান্ত্রিক দেশ ভারত বর্ষে বাস করি। আমাদের দেশে পঞ্চায়েত স্তর থেকে জাতীয় স্তর পর্যন্ত অর্থাৎ লোকসভা পর্যন্ত আমাদের নির্বাচিত প্রতিনিধি দলের সদস্য।আমরা দেখি যে এরা দেশের সরকার পরিচালন করে। সবাই জানি বা দেখি যেটা সেটা মনে করি, কিন্তু এমন অনেক সিদ্ধান্ত আছে যা বিভিন্ন আই এস বা আই পি এস অফিসার নিয়ে থাকেন। সেই সব সিদ্ধান্ত এদের বলেন, অনেক ক্ষেত্রেই সেগুলো কার্যকর করা হয়। মোটের উপর ভারতের শাসন ব্যবস্থায় এই উচ্চ পদস্থ অফিসার গন, দেশের শাসন ব্যবস্থা পরিচালনা করেন। আমরা তাহলে এ কথা বলতে পারি, যে এই সব মোটা বেতনের অফিসার রা গরীব মানুষের দুঃখের কথা শুনবেন, তাদের বেতন এতো বেশি যে কল্পনা করতে পারবেন না। এই সব অফিসার গণ সাধারণ মানুষের দুঃখের কথা, যারা ১৫০ টাকা প্রতিদিন উপায় করতে পারেন না, সেই সকল মানুষের জন্য কিছু করতে যাবেন! এদের একদিনের উপায় বর্তমানে আট হাজার টাকা থেকে নয় হাজার টাকা। আর তার নীচের কর্মচারীদের বেতন এদের দশ ভাগের এক ভাগ, এই বৈষম্য এরা তৈরী করে রেখেছে, কারণ এই সব অফিসার রা সরকারের সকল সিদ্ধান্ত কার্যকর করার দায়িত্ব প্রাপ্ত। পশ্চিমবঙ্গের ষষ্ঠ বেতন কমিটির কমিশনার, অভিরূপ বাবু তিনি ইন্ডিয়ান ট্যাটেস্টিক্যাল ইনস্টিটিউট চাকরির করেন, যেটি কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে বর্তমানে তিনি প্রায় দু লক্ষ টাকা বেতন পান। এই সব মানুষ নিজের টা ভালো বোঝেন বাকী মানুষ মরল কী বাঁচল বেতন পেল কী না পেল তাতে কিছু যায় আসে না। যদি দেখেন মন্ত্রী গন যা খুশি তাই সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ঐ অফিসার রা সেটা কার্যকর করতে উঠে পরে লাগেন, তাতে সাধারণ মানুষের ক্ষতি করেও করে দেখিয়ে দেন। বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রী ও আমলা সব ঠিক এই পথে চলছে, ধরুন সরকার সিদ্ধান্ত নিল যে তারা সকলকে বস্ত্র বিতরণ করা হবে। সঠিক তথ্য দেওয়ার প্রয়োজন, এমন করা হল, লাগবে দু হাজার এসে পৌঁছয় আঠারো শো।
সাধারণ মানুষের দুঃখের মূল কারণ এই সব উচ্চ পদস্থ কর্তারা। এরা কখনো চায় না, সাধারণ মানুষ সুস্থ ভাবে বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ উপার্জন করুক,এখন বিভিন্ন চিটফাণ্ড কেলেঙ্কারি নিয়ে তদন্ত চলছে। এই সব তদন্তের দায়িত্বে কারা ঐ ধরনের বড়ো অফিসার, আজ কত বছর হলো দেখুন কোনো সুরাহা হয়নি। সাধারণ মানুষ সর্বশ্রান্ত হয়েছে তাতে ওনাদের কী? সাধারন মানুষ আত্মহত্যা করেছেন তো ওদের কী? এই সব অফিসার রা দেখেন নেতা মন্ত্রীরা কী চাইছেন। ভোটের সময় এই অফিসার রা পরিচালনা করেন প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত, যখন দেখা যায় ইভিএম বা ব্যালট বাক্স বদলে গেছে,এরা চাপা দেন যা তাই হোক অত কিছু দেখতে হবে না ।তিনি জানেন ওই কথা বলে যেমন ভাবে হোক কাজটা করতে হবে। তিনি যদি না পারেন তবে তার ওপর অফিসারের কোপে পড়তে হবে। তাই নেতা মন্ত্রীরা নিজের কোলে ঝোল টানলেও কিছু বলেন না। আমরা যদি সত্যি প্রতি পাঁচ বছর অন্তর নতুন নতুন সরকার ক্ষমতায় আসুক চাই, তাহলে এই অফিসার দের সৎ হতে হবে, ভাবতে হবে যে তাদের উপর সাধারণ মানুষের সুখ, দুঃখ, জীবন, মরণ নির্ভর করছে। আর যারা নির্বাচিত হয়ে নেতা মন্ত্রী হলেন, তারা পাঁচ বছরের জন্য ।তিনি থেকে যাবেন, তাই প্রতিটি সরকারি কর্মীদের সর্তক থেকে কাজ করতে হবে। ঘুষ নিয়ে সাময়িক আনন্দ পাবেন, কিন্তু আপনার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে দেখবেন, তারা আপনার ঘুষ নেওয়া বা চুরির পক্ষে কিনা? আমার মনে হয় না, কারণ দস্যু রত্নাকরের পাপের ভাগ তার পরিবারের লোকজন নেয়নি।

ভারতের ভোটের মেশিন।

কথায় বলে সত্যি একদিন না একদিন প্রকাশ পাবে। ভাববেন হঠাৎ আমি কী সব লিখছি,  যা লিখছি যদি কেউ পড়েন তবে তিনি ভাল মন্দ মন্তব্য করতে ভুলবেন না। আমি জানি কেউ পড়ছে না। কারণ গুগুল ঠিক করে রেখেছে পোস্ট করলে ১ থেকে ৫ জন দেখাবে। এর থেকে বেশি হলে আমি মনে করি কেউ পড়ছে।
আজ আমি যে টা লিখছি সেটা হলো, আজকের একটা খবর অন লাইন আনন্দ বাজার পত্রিকায় পড়েছি। আমাদের রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সন্দেহ করছেন, আগামী লোকসভা ভোটে বিজেপি ৪০% ইভিএম এ কারচুপি করবে। নির্বাচন কমিশন বলছেন ইভিএম এ কার চুপি করা যায় না, অথচ একটা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন কারচুপি করা হবে। তাহলে বোঝা যাচ্ছে ইভিএম এ যেকোন ভাবে কারচুপি করা যায়। যেমন পঞ্চায়েত নির্বাচনে ইভিএম ছিল না, কিন্তু কারচুপি কী করে অনেক ঘটনা টিভি তে মানুষ দেখেছে। আর যে খানে ভালো ভোট হলো সেখানে সিভিক রা কিছু কিছু বাক্স পাল্টে দিয়েছে। গত বিধানসভা নির্বাচনে এই ভাবেই জয় লাভ। আর এই পরিবর্তনের অর্থাৎ বাক্স বদলে সাহায্য কারা যারা পাহারা দার, তাতে তাদের নিশ্চয়ই কোন লাভ আছে। বলতে পারেন তোর কী আছেরে ওরা যাই করুক তোর কী? আম জনতার মতো তোর কাজ একটা ভোট দেওয়ার দিতে পারলে দিবি না পারলে না দিবি। একদম সঠিক কথা, কিন্তু এই রাজনীতি যে আমাদের জীবনের সঙ্গে ওতোপ্রতো ভাবে জড়িয়ে আছে। যে রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় আসে তারাই ঠিক করে দেয় আমাদের পেশা খাবার নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস পত্রের দাম। আমাদের প্রতিটি ওঠাপরা সর্বত্র রাজনৈতিক দলের ঠিক করে দেওয়া।কয়েকটি কথা লিখছি, সরকার দু টাকা কিলো চালের ব্যবস্থা করেছে, তা সত্ত্বেও পুরুলিয়ায় শ্বর জনগোষ্ঠীর লোক না খেয়ে মারা গেছে। এদের জন্য একশ দিনের কাজ আছে যেটা সরকারের ঠিক করে দিয়েছে, কিন্তু দুর্ভাগ্য এরা একশ দিনের কাজ করে আর টাকা পায় না। টাকা যদিও সেও রাজনৈতিক দলের নেতাদের অর্ধেক দিয়ে দিতে হয়। এই সরকার তৈরি করে সেই রাজনৈতিক দল যে ভোটে সবচেয়ে বেশি বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হয়েছে। সেই জন্যই এই যে দল মানুষের জন্য কাজ না করে দলের নেতা মন্ত্রী দের পকেট ভর্তির জন্য ভোট কারচুপি করে জেতে ক্ষমতা পেয়ে পূর্ব প্রতিশ্রুতি ভুলে যান। সাধারণ মানুষ থেকে সব ধরনের সরকারি কর্মী কৃষক সকলের জীবন জীবিকা বিপন্ন হয়ে যায়। ভোটে কারচুপি রুক্ষতে সঠিক পাহারাদার চাই। আর রাজনৈতিক দল গুলো কে সঠিক নেতা ঠিক করতে হবে।

Friday, 16 November 2018

কলকাতার ছোট ছবি বা তথ্য চিত্র প্রদর্শনী।

ছবি টি অন লাইন আনন্দ বাজার পত্রিকায় থেকে নেওয়া।কলকাতা এমন সুন্দর একটা তথ্য চিত্র প্রদর্শনী সত্যিই অনেক দিন দেখেনি। কত বড়ো বড়ো মানুষ অভিনেতা সেখানে উপস্থিত। এই রকম উৎসব মেলা আরও আয়োজন করা হোক। এসব উৎসব খুব উপকার করে সমাজের পরিবর্তন আনতে, সমাজ তথা মানুষ জন অনেক কিছু শিখতে পারে। তবে এখন নেটের যুগ ইউটিউব খুললেই নানা রকম ভিডিও দেখতে পারেন। আমার মনে হয়, যে তথ্য চিত্র বা শর্ট ফিল্ম দেখানো হচ্ছে, সে গুলো ইউটিউবে আপলোড করে দিলে অনেক লোক দেখতে পাবে।
উৎসব আমাদের রাজ্যের খুব উপকার করে। আমার একটা জিজ্ঞাসা আছে ওখানে কীএই তথ্য চিত্র দেখানো হচ্ছে? দু টাকা কিলো চাল আর একশ দিনের কাজ কাজ প্রকল্প থাকতে চা বাগান আর পুরুলিয়ায় শ্বর জন গোষ্ঠী মানুষ না খেয়ে মারা যাচ্ছে। আজ অন লাইন আনন্দ বাজার পত্রিকায় পড়লাম, মল্লিকা রায় চৌধুরী একটি তথ্য চিত্র "মা" দেখানো নিয়ে একটা গুঞ্জন উঠেছে। এই তথ্য চিত্র টি নাকি কন্যাশ্রী রূপশ্রী আরও যে সব শ্রী নিয়ে তৈরী। আমি একটা কথা মনে পড়ে গেল ঐ তথ্য চিত্রে আমার যতদূর মনে পড়ে পার্কষ্ট্রীট না অন্য কোন ধর্ষণ কাণ্ডের পর, ধর্ষিতার রেট ঠিক করে দেওয়া হয়ে ছিল। কে কত টাকা পাবে ১০, ২০,৩০ হাজার এটাকে কী ধর্ষণ শ্রী বলে দেখিয়েছেন ? আচ্ছা চপ শিল্প, মদ শিল্প, বোমা শিল্প, আর রাস্তা ঘাট তৈরি ক্লাব গুলো কে টাকা দেওয়া, মাটি উৎসব, জল উৎসব, খাদ্য মেলা, টাকা দিয়ে কলেজে ভর্তি, প্রিয় মুখ্যমন্ত্রী কন্যাশ্রী পঁচিশ হাজার টাকা দেন কলেজে পড়ার জন্য। সত্যিই অনেকেই ঐ টাকা কাজে লাগিয়েছে। কলেজে অনেক ভাইপো আছে তারা টাকা টা নিয়েছে । ভর্তির শেষের দিকে অবশ্য কলেজে পৌঁছে গিয়েছেন টাকা নেওয়া বন্ধ করার জন্য। পঁচাত্তর শতাংশ টাকা তখন চলে গেছে, যথা স্থানে আর ফেষ্টিভেলের মাথায় তার তো কথাই নেই। খুব ভালো লোক, ওনার কাছে অনেক কিছু শেখার আছে, কী ভাবে অনেক গুলো বিয়ে করতে হয়। শুধু উনি কেন টালিগঞ্জের প্রায় সমগ্র চলচ্চিত্র জগৎ আজ ঐ দিকে।  এরা নাকি সমাজ কে শিক্ষা দেন সিনেমা বা চলচ্চিত্রের মাধ্যমে। কী শিক্ষা দেন তাহলে, টাকার লোভে সত্য কে বিসর্জন দিতে হবে। একবার এম পি এম এল এ হলে, সারা জীবন বসে বসে পেনশন পাওয়া যাবে। যে রাজ্যে না খেতে পেয়ে মানুষ মারা যাচ্ছে, অভাবের তাড়নায় তিন তলা বা পাঁচ তলা থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। সপরিবারে বিষ খেয়ে আত্মঘাতী হচ্ছে। কৃষক ঋণ শোধ করতে না পেরে আত্মহত্যা করেছেন। কারণ দু হাজার টাকা এক প্যাকেট সার আর আরও কয়েক হাজার টাকা বীজ কিনে ফসল করে জলের দরে বিক্রি করতে বাধ্য হন। আবার চিটফাণ্ডে টাকা রেখে সর্বশান্ত মানুষ গুলো যে কারণে কত এজেন্ট আত্ম হত্যা করে ফেলেছেন। সত্যি বাদীর দল সত্যি কথা বলতে পেরেছে কে কত টাকা নিয়েছে। আজ পাঁচ বছর হয়ে গেল টাকা ফেরতের নাম করে ভুয়ো চেক দেওয়া, কেউ এসব নিয়ে ছবি তৈরি করে না। এরা নাকি সমাজ কে শিক্ষা দিতে সিনেমা তৈরি করে, সে শিক্ষা তাহলে কি টাকার জন্য যা খুশি তাই করতে পারে। লেখাপড়া শেখ চাকরির দাবি করো না, চাকরির করতে চাও ঘুষ দাও, তাও কেমন চাকরি পাঁচ হাজার টাকা বেতন চুক্তি ভিত্তিতে, কাগজে ঘোষণা করা হবে বেতন বাড়ানো হবে। টিভি ফেটে যাবে সেই বেতন বৃদ্ধি নিয়ে  কিন্তু বাস্তবে তার দেখা নেই । এই সব পেটয়া আর অন্যায়ের কাছে বিক্রি হওয়া চ্যানেল গুলো জানে না, বাজার সচল রাখতে টাকার যোগান দরকার , আর সেই টাকা সরাসরি কর্মী দের বেতনের মাধ্যমে বাজারে যোগান দেওয়া হয়। এমন ভাবে এই সব টিভি চ্যানেল প্রচার করে যে যাতে করে সাধারণ মানুষ সরকারি কর্মীদের উপর ক্ষেপে যায়। আর এই সব চলচ্চিত্র অভিনেতা নিজের আখের গোছানোর জন্য অন্যায় কে অন্যায় বলতে পারে না। সাধারণ মানুষ মরছে মরুক আমার টাকা পেলেই হবে।
সাধারণ মানুষের কাছে আমার অনুরোধ এদের কে বয়কট করুন। এদের অভিনিত চলচ্চিত্র, সিরিয়াল, এবং এদের টিভির যে চ্যানেল যে ভাবে দেখাক টিভির চ্যানেল টি স্কিপ করে দিন, এরা আর যাই করুক সে গুলো দেখবেন না। কিছু কিছু চ্যানেলে কেউ কেউ এ্যঙ্কারিং করে এদের সেই অনুষ্ঠান দেখবেন না।
আসুন সকলে মিলে এই সব সিনেমা বয়কট করুন।








Thursday, 15 November 2018

যম পুরীতে অধিবেশন ।

যমরাজ বলেন, ভানু বাবু আপনি কেন যেতে চাইছেন না  " মহারাজ আমি এর আগে দুবার ঘুরে এসেছি। একবারে ম্লেচ্ছ ব্যপার, কে যে কার বৌ আর কে যে কার মা, কে কার স্বামী বোঝা যাচ্ছে না। যে যাকে খুশি নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে, রাস্তা ঘাটে যা খুশি তাই করছে। হোটেলে নাইট ক্লাবে পার্টির নাম করে, সব খোলা খুলি আরম্ভ করে দিয়েছে। বিয়ের আগেই সব করে বসে আছে, কত নতুন নতুন রোগ হচ্ছে। ঐসব কাণ্ড দেখে আমি শেষ বারের বার আর বিয়ে করিনি। বাঘা বলে, মহারাজ আপনি তো সব জানেন আমাদের জিজ্ঞেস করছেন। মর্ত্যের অবস্থা ভালো নয়, জানেন আমি ভুত হয়ে অনেক অনেক বার আপনার কাজে মর্ত্যে গিয়েছি। দেখেছি সেখানে যেন তৃতীয় বিশ্ব যুদ্ধ চলছে। ভোট এলে তো কথাই নেই, আপনি জানেন কম আত্মা আমরা নিয়ে এসেছি। কত কচি কচি আত্মা দেখলে মায়া লাগে। যম রাজ, "তুমি কী করবে? ওর মৃত্যু ওভাবে লিখেছেন বিধাতা। গুপি বলল," আমি এই বিধাতার সাথে একবার দেখা করতে চাই।"    " সে তুমি করতে পার, কারণ তোমরা আমার বিশেষ দূত, তুমি কথা বললে যে পরিবর্তন হবে, এর কোনো মানে নেই। তবে ভানু বাবু যে টা বলল ওর জন্য দায়ী এই মেছুনি, ভুতের রাজ্যের বা নরকের দায়িত্ব পেয়ে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিয়ে মর্ত্যে মানুষ করে পাঠিয়ে দিচ্ছে। ষাঁড় আর পাঁঠা গুলো কে বেশি পাঠিয়েছে। তারা আজ যত গণ্ডগোল পাকাচ্ছে। ওদের সঙ্গে গাভী আর ছাগী গুলো কে পাঠাতো তাহলে এই গণ্ডগোল হতো না। মেছুনি এতখন চুপ করে ছিল এবার বলল, " মহারাজ যত দোষ আমাকে চাপিয়ে দিচ্ছেন, গো ভুতরা অনেক দোষ করে গেছেন। আর গাভী আর ছাগী মানুষ হতে চায় না। ওরা বলে মানুষ হলে ভীষণ জ্বালা খাবার যোগার করা খুবই কঠিন। চড়ে যা খুশি খাওয়া যাবে, আর মানুষ হলে নানা ফিরিস্তি টাকা চাই ভালো রোজগার না করতে পারলে খেতে পাবে না। আবার মেয়ে মানুষ ওরে বাবা সে পুরুষদের কাছে ভোগের বস্তু। বাড়িতে বিয়ে করে নিয়ে যাবে, আর একটু ত্রুটি হলে, রেহাই নেই যা খুশি তাই সাজা খেতে না দেওয়া মার ওতো লেগেই আছে। ওর থেকে গাভী ছাগী হওয়া খুব ভালো, মানুষ হলে আপনি নরকে পাঠিয়ে নরক যন্ত্রণা দেবেন। হয় তেলে ভাজা করে দেবেন। করাত দিয়ে কাটবেন। মুগুর দিয়ে পেটাই করবেন। মানুষ গুলো বেশি নরক যন্ত্রণা ভোগ করে। আপনি এসব বন্ধ করুন, তাহলে আমাকে প্রতিশ্রুতি দিতে হবে না।যমরাজ, " কী আর করা যাবে ওরা যে পাপ করে আসে তাতে স্বর্গে পাঠানো যায় না। ওদের নরক যন্ত্রণা পেতে হবেই। আমি বন্ধ করতে পারব না। মানুষেরা মর্ত্যে গিয়ে জণ্ম নিয়ে ভাবে কেউ কেটা হয়ে গেছি। যা খুশি তাই করতে পারি, পাপ পুণ্য জ্ঞান থাকে না। কেউ কেউ তো আমাদের মানে না, লোক ঠকানো জীব হত্যা মানুষের মুখের গ্রাস কেড়ে নেওয়া। খুন চুরি ডাকাতি মানুষ হত্যা, আর ঐ যে বললে মেয়ে মানুষ মানে ভোগের বস্তু। পুরুষ প্রকৃতি বিধাতার তৈরি তাদের মিলন হবে। নতুন জীবন সৃষ্টি হবে, সে মিলন হবে সুখের সুন্দর ভাবে, তা না করে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই জোর করে অসুস্থ ভাবে সব সৃষ্টি হচ্ছে।সত্যিই তোমার কোনো দোষ নেই, তবে তুমি ঐ যে আজব প্রতিশ্রুতি দিচ্ছ। নরকের যে খানে যা খুশি যা খুশি করে দিচ্ছ। পাপের সাজা কমিয়ে দিয়েছ, আবার আমি এখান থেকে যা সাজা বলে পাঠাচ্ছি। তুমি সে গুলো সহজ সরল করে দিচ্ছ। মেছুনি  " মহারাজ না হলে কেউ মর্ত্যে মানুষ হতে চাইছে না। আমি বলেছি মর্ত্য থেকে নরক পর্যন্ত রেল লাইন বসাব। আপনি যদি অনুমতি দেন খুব ভালো না হলে চুপি চুপি পুষ্প রথ পাঠিয়ে ওদের নিয়ে আসব কষ্ট দেব না। আচ্ছা মহারাজ রাবন স্বর্গের সিঁড়ি তৈরী করতে শুরু করে ছিল কেবল রাম বাধা হয়ে দাঁড়াল তাই। আমি রেল বসাব বলেছি বলে এতো কথা। বলুন না আমি ভুতের রেল কেমন হবে ভুতের রেল কেউ দেখতে পাবে না। নিয়ে আসবে আপনার দূতেরা তাদের রথ দিন তাহলে এই সমস্যা থাকবে না। " .   "ঠিক আছে আমি চেষ্টা করছি ভুতেরা যাতে নরকে কষ্ট কম পায় তার ব্যবস্থা করা যায় কি না দেখব। চিত্র গুপ্ত তুমি না ঢুলে কোথায় কী পরিবর্তন হচ্ছে লক্ষ্য রাখবে।".  " যে আজ্ঞা মহারাজ। "
( চলবে)